ম্যাগাজিন

অনুরাগ


01. Aito Valobasha – Tausif & Liza
http://www.mediafire.com/?zr3eyozbfppxura

02. Prothom Shurjodoy – Shafiq Tuhin & Porshi
http://www.mediafire.com/?f13u695zoqaf0wu

03. Pagol Pagol Mon – Rajeeb & Nowreen
http://www.mediafire.com/?f8zdbqqj3qgcpj9

04. Ekla Prohor – Belal Khan & Porshi
http://www.mediafire.com/?d797vv12ba9ub2z

05. Bidhi – Tutul
http://www.mediafire.com/?5pbivpvb2vzt52k

06. Prothom Dekha – Rajeeb & Earnnick
http://www.mediafire.com/?7xzzycsfrnfrlpr

07. Prothom Shurjodoy (Solo) – Shafiq Tuhin
http://www.mediafire.com/?wwtx6nzbethxddf

08. Ekmutho Prem – Tutul & Rizia
http://www.mediafire.com/?ig8c3eky9uhv11n

09. Instrumental
http://www.mediafire.com/?a301ln166796otj

ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়


দুর্নীতিতে বাংলাদেশের সুদিন আর নেই। একটা সময় দুর্নীতিতে অপ্রতিরোধ্য ছিলাম আমরা। দুর্নীতির র‌্যাঙ্কিংয়ে বেশ কয়েকবার শীর্ষস্থান দখল করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু ইদানীং আমাদের ফর্ম একেবারেই ভালো যাচ্ছে না। আমরা আর শীর্ষস্থানে নেই। অনেক দিন ধরেই দুর্নীতিতে প্রথম হতে পারছি না আমরা। যা অত্যন্ত হতাশাজনক। একবার-দুবার নয়, পর পর পাঁচবার দুর্নীতিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল বাংলাদেশ। যে দুর্নীতির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি লাভ করেছিল, সেই বাংলাদেশ এখন শীর্ষস্থানে নেই—এটা কিছুতেই মেনে নেওয়া যায় না। শুধু শীর্ষস্থান কেন, একেবারে প্লেসের বাইরে চলে গিয়েছি আমরা। গত বছর আমাদের অবস্থান ছিল ১২ নম্বরে। এ বছর আমাদের পারফরম্যান্স আরও খারাপ হয়েছে। আমরা এখন ১৩ নম্বরে আছি। ছিঃ! সারা বছর এত এত দুর্নীতি করেও যদি দশের ভেতরে আসতে না পারি, তাহলে বেঁচে থেকে কী লাভ? তা ছাড়া ১৩ সংখ্যাটিও মানুষ ভালো চোখে দেখে না। অশুভ-১৩ নিয়ে অনেক প্রবাদ আছে। ১৩ নম্বরে এসে আমরা আবার কোন অশুভ জালে আটকা পড়ব তা কে জানে! আমাদের দেশের দুর্নীতিবাজেরাও ব্যাপারটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। ঘুরে দাঁড়ানোর এখনই সময়। আশা করি দেশের সুনাম অক্ষুণ্ন রাখতে যত ধরনের দুর্নীতি করা দরকার তার সবই তাঁরা করবেন। কে জানে, হয়তো তাঁরা এরই মধ্যে কাজও শুরু করে দিয়েছেন। তবে শোনা যায়, অনেক দুর্নীতিবাজ এই ফলাফল প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁদের দাবি, এখানে নিশ্চয়ই কোনো দুর্নীতি হয়েছে। তা না হলে আমাদের যে পারফরম্যান্স তাতে নিশ্চিতভাবেই আমরা প্রথম স্থানের দাবিদার। তবে ক্রিকেটাররা যেভাবে আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত মেনে নেন, সেভাবে দুর্নীতিবাজেরাও এই ফলাফল মেনে নিয়ে নতুন ইনিংস শুরু করবেন। দেশের প্রতিটি পয়েন্টে দুর্নীতি করে শীর্ষস্থান দখলের দৃঢ় প্রত্যয় লক্ষ করা গেছে দুর্নীতিবাজদের মধ্যে। তবে তাঁরা জানেন যে ভালো কাজে, দেশের কাজে বাধা আসবেই। বাধা এসেছেও। এরই মধ্যে নিখিল বাংলা বাজপাখি সমিতি প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, ‘দুর্নীতিবাজ’ শব্দটি থেকে ‘বাজ’ শব্দাংশটুকু বাদ দিতে। এতে দেশের আপামর বাজপাখি সম্প্রদায় অপমানিত বোধ করে। তবে এ নিয়ে দুর্নীতিবাজদের মাথা ঘামবে না। তাঁদের একমাত্র লক্ষ্য দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেশকে চ্যাম্পিয়ন বানানো। সে লক্ষ্যেই তাঁরা দিনরাত কাজ করে চলেছেন। এখন পর্যন্ত তাদের কাজের অগ্রগতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে রস+আলো এই সংখ্যাটি প্রকাশ করল। আর তাতে সহযোগিতা করেছে টিআইবি।

ঘুষকে ‘স্পিড মানি’ বলে কেন

মবিল তেল যেমন গাড়ির যন্ত্রাংশের ঘর্ষণজনিত বাধা কমিয়ে সাবলীল গতি নিশ্চিত করে, তেমনি ক্ষেত্রবিশেষে ঘুষের টাকা কোনো কাজের গতি বাড়িয়ে দেয়। এ জন্য একে ‘স্পিড মানি’ বা গতি সৃষ্টিকারী টাকা বলে। দুর্নীতির অন্যতম মাপকাঠি হলো ঘুষ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একটি দেশে কয়েক বছর আগে এমন অবস্থা ছিল যে পর্যটকেরা ঘুষ না দিলে বিমানবন্দরে তাদের পাসপোর্টে সিল দেওয়া হতো না, ফিরে যেতে হতো। আফ্রিকার একটি দেশে বিদ্যুৎ বা টেলিফোন বিল দিতে গেলে ব্যাংকে ঘুষ লাগত। বাংলাদেশের অবস্থা সে তুলনায় কিছুটা ভালো বলে টিআইয়ের তালিকায় একটু ওপরের দিকে আছে। কেমন ভালো? শুনুন। একবার এক লোক গেছেন সরকারি দপ্তরে এক কাজে। তিনি জানতেন, ‘ফুয়েল ছাড়া ফাইল নড়ে না।’ তাই ঢাললেন ফুয়েল। খুব দ্রুতই কাজটি হয়ে গেল। কাজ শেষে পিয়ন ওই ব্যক্তির হাতে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বললেন, এটা ‘স্পিড মানি’র আপনার প্রাপ্য অংশ, বাকিটা যথারীতি ভাগ হয়ে যার যার পকেটে গেছে। নিজের দেওয়া ঘুষের টাকার অংশ যে নিজেও পেতে পারেন, এটা দেখে তিনি অবাক! ঘুষের টাকা যখন সততার সঙ্গে ভাগ করা হয় তখনই তা ‘স্পিড মানি’ হিসেবে কাজ করতে পারে।

উটপাখির গল্প

মতলুব সাহেব ঠিক করলেন তিনি দুর্নীতি করবেন। অন্তত একবার হলেও দুর্নীতি করে দেখতে চান এর ‘ফজিলত’। সবাই এত দুর্নীতি করে, কেন করে… তিনি বিষয়টা বুঝতে চান। যেই ভাবা সেই কাজ। তিনি তাঁর অফিসের এক বড় কর্মকর্তার কাছে গেলেন, যিনি দুর্নীতির জন্য বুকার পুরস্কার পেতে অপেক্ষমাণ (অবশ্য দুর্নীতির জন্য বুকার পুরস্কার দেওয়া হয় কি না ঠিক জানি না)!
—স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
—ওয়ালাইকুম…। কী ব্যাপার?
—স্যার, কীভাবে অন্তত একটা দুর্নীতি করা যায়, সেটা জানতে এসেছি…
—মানে? ভ্রু কুঁচকে যায় বড় কর্মকর্তার।
—মানে, স্যার, আপনি তো প্রচুর দুর্নীতি করেছেন, তাই আপনার কাছে পরামর্শের জন্য…
—হোয়াট? আমি দুর্নীতি করেছি মানে?
—বাহ্, দুনিয়াসুদ্ধ লোক জানে আপনি অফিসের এক নম্বর দুর্নীতিবাজ অফিসার আর আপনিই সেটা জানেন না? আপনি তো মনে হচ্ছে উটপাখি…স্যার…
—উটপাখি মানে?
—কেন স্যার, আজকাল বিজ্ঞাপন দেখেন না, ‘উটপাখি নয়, মানুষের জীবন চাই’…
—গেট আউট, গেট আউট…

মতলুব সাহেব মন খারাপ করে বের হয়ে আসেন দুর্নীতিবাজ অফিসারের রুম থেকে। এ সময় আরেক ছোট কর্মকর্তা এগিয়ে আসেন তাঁর দিকে।
—স্যার।
—কী ব্যাপার?
—স্যার, আপনাদের কথাবার্তা আড়াল থেকে সব শুনেছি। অনুমতি দিলে কিছু পরামর্শ আমি দিতে পারি আপনাকে।
—ও আচ্ছা আচ্ছা…বলুন।
—স্যার, ছোটখাটো দুর্নীতি আমিও করি। বিষয়টা আসলে স্যার শুরু করতে হবে ঘর থেকে।
—মানে?
—মানে, স্যার, চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। স্যার, বাসায় বাজার কার হাতে?
—আমার স্ত্রীই করে সব সময়।
—এই তো পেয়েছি…। স্যার, কাল থেকে বাজারের দায়িত্ব আপনি নেন…বাজারের টাকা থেকে টুকটাক সরাতে শুরু করেন…তারপর এভাবেই একদিন…

আইডিয়াটা পছন্দ হলো মতলুব সাহেবের। তিনি বাসায় এসে ঘোষণা দিলেন:
—কাল থেকে আমি বাজার করব।
—তুমি বাজার করবে? স্ত্রী অবাক!
—হ্যাঁ, সমস্যা কী? তুমি তো বহুদিন বাজার করলে, এবার বিশ্রাম নাও…স্বামী হিসেবে আমারও একটা দায়িত্ব আছে সংসারের প্রতি।
স্ত্রী খুশি হলেন, যাক, এত দিনে তার স্বামী একটু সাংসারিক হয়েছে, মন্দ কী। খুশি মনে পরদিন বাজারের ব্যাগ আর টাকা তুলে দিলেন তাঁর হাতে। আর বললেন, ‘দেখো, পচা মাছ আবার কিনে এনো না। শাকসবজি সব দেখেশুনে আনবে…আর হ্যাঁ, ভালো দেখে একটা কাপড় কাচার সাবান আনবে।’
—কিচ্ছু চিন্তা কোরো না…খুশি মনে বের হয়ে গেলেন স্বামী টাকা আর বাজারের ব্যাগ নিয়ে।

কিছুক্ষণ বাদেই বাজার নিয়ে ফিরলেন। স্ত্রী হতভম্ব। সবই পচা মাল নিয়ে ফিরে এসেছেন। শুধু সাবানটা ভালো…এক নং পচা সাবান!
—এসব কী কিনেছ? আর এত উল্টাপাল্টা দাম। এই ইলিশ তিন শ টাকার বেশি হতেই পারে না আর তুমি কিনেছ পাঁচ শ টাকায়। দশ টাকার শাক বিশ টাকায়…দেখি টাকার হিসাব দাও।
—আরে হিসাব দিব কি, সব টাকা খরচ। স্বামী হাসেন। হাসার কারণ তিনি ভালো মার্জিন করেছেন। তাঁর প্রথম দুর্নীতি! চ্যারিটি বিগিনস অ্যাট হোম। হোক না নিজের টাকা নিজেই মেরেছেন। মেরেছেন তো!

খুব শিগগির সেই ছোট কর্মকর্তা আবার এলেন তাঁর কাছে।
—স্যার, ভালো একটা সুযোগ এসেছে।
—কিসের সুযোগ?
—কেন স্যার, দুর্নীতির। আমরা ঢাকা শহরে দশটা ওভারব্রিজ করার কাজ পেয়েছি…টেন্ডার…ওয়ার্ক পারমিট…বিল পাস…সব স্যার আপনার হাতে। এই যে স্যার ম্যাপ, কোথায় কোথায় ওভারব্রিজ হবে।
—কিন্তু দুর্নীতিটা হবে কীভাবে?
—এই যে, স্যার, অরিজিন্যাল ম্যাপে দেখছেন, যেখানে যেখানে ওভারব্রিজ হবে, আমরা সেখানে সেখানে করব না…আমরা করব এখানে এখানে…আমি দাগ দিয়ে রেখেছি…এটা, স্যার, নকল ম্যাপ।
—কিন্তু নকল ম্যাপের এসব জায়গায় ওভারব্রিজ হলে জনগণের লাভ কী?
—স্যার, জনগণের লাভ দেখতে গেলে কি আর দুর্নীতি করা যায়?
—কী বলছেন এসব?
—ঠিকই বলছি, স্যার। দুর্নীতি করবেন আবার জনগণের ভালোও চাইবেন? দুইটা কি একসাথে হয়?
দীর্ঘশ্বাস ফেলেন মতলুব সাহেব। বিষণ্ন ভঙ্গিতে মাথা নাড়েন:
—ঠিকই বলেছেন, দুুইটা একসাথে হয় না। বরং একটাই করি…
—কোনটা, স্যার?
কথা বলেন না মতলুব সাহেব। নকল ম্যাপটা ছিঁড়ে ফেলেন টুকরো টুকরো করে। ছোট কর্মকর্তা অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকেন মতলুব সাহেবের দিকে। ভাবেন, ‘ধেৎ, বেটাকে উটপাখি বানানো গেল না।

না-কাটা দিঘি ভরাট

একবার এক প্রকৌশলী বদলি হয়ে নতুন এক এলাকার দায়িত্ব নিলেন। গিয়েই তিনি তাঁর সহকারীকে আগের কয়েক বছরে কী কী উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হয়েছে, সে রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ দিলেন। নির্দেশমতো তদন্ত করে সহকারী তাঁকে যথাসময়ে রিপোর্ট দিলেন।
রিপোর্ট ঘেঁটে প্রকৌশলী দেখলেন, এলাকায় পানির সমস্যা নিরসনে একটি প্রশস্ত দিঘি খনন করার বাজেট দেওয়া হয়েছিল এবং রিপোর্টে উল্লেখ আছে, সেই দিঘিটা যথাসময়ে খনন করা হয়েছে। কিন্তু সমস্যা হলো, অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তিনি রিপোর্টে উল্লিখিত জায়গায় কোনো দিঘি খুঁজে পেলেন না। তাঁর আর বুঝতে বাকি রইল না, আসলে কী ঘটেছে। তিনিও এর সুযোগ নিয়ে ওপরের মহলে রিপোর্ট করলেন, এই এলাকার মানুষ দিঘি থেকে পানি পান করে বলে এখানে ডায়রিয়াসহ পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেশি। তাই অচিরেই যেন এই দিঘি ভরাট করে এখানে নলকূপ স্থাপনের বাজেট দেওয়া হয়। যথাসময়ে বাজেট মিলল এবং ‘না-কাটা’ দিঘি ভরাট হয়ে গেল; সেই সঙ্গে ওই প্রকৌশলী ও তাঁর সহযোগীদের পকেটও ভরল.

বাংলা সার্চে দুর্নীতি সন্ধান

নেই মানে নেই! দেশের কোথাও আসলে দুর্নীতি নেই। টিআই জরিপে এখনো বাংলাদেশ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের অন্যতম হতেই পারে, কিন্তু কে না জানে, দেশে কোনো দুর্নীতির নামগন্ধও নেই। কেউ হয়তো বলবেন, দুর্নীতির অভিযোগে পদ্মা সেতুর কাজই তো আটকে গেল। আসলে ওটা স্রেফ ভুল-বোঝাবুঝি। বিশ্বব্যাংক যোগাযোগমন্ত্রীর দিকে আঙ্গুল তুলেছে ঠিক, তবে সেটা বিএনপি আমলের যোগাযোগ। আরও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠছে। কিন্তু প্রমাণ কোথায়? যারা বলেন দুর্নীতি দমন অভিযানের গতি ঢিমেতালে, তারা আসলে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চক্রান্ত করছেন। না, কোথাও দুর্নীতির লেশমাত্রও নেই। এমনকি আওয়ামী লীগ আমলে যে বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হওয়া শুরু করেছিল, সেটাও ছিল রূপকথা।
এমনিতে ডিজিটাল যুগে অ্যানালগ পদ্ধতিতে দুর্নীতি খোঁজাও খুব কাজের কথা নয়। যথারীতি ‘বাংলা সার্চে’ও নেই মানে নেই!

মূল সমস্যা মূলত আমজনতার। খেয়ে না-খেয়ে তারা কেবল দুর্নীতির গন্ধ খুঁজে বেড়ায় আর নিষ্ঠাবান সরকারকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলে। ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদেও একই ঘটনা। পুরো পাঁচটি বছর সবাই সাক্ষাৎ দুর্নীতিবিরোধী যমদূত। কিন্তু ফাঁক দিয়ে প্রতিবছর টিআই কী কী সব রিপোর্ট প্রকাশ করল। পর পর চারবার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। সবই ছিল সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা। তবে মেয়াদ পেরোতেই বেরিয়ে এল থলের বেড়াল। ওদিকে কাহিনি জমে ওঠার আগেই কেউ পাড়ি জমালেন লন্ডনে, কেউ আবার মালয়েশিয়া-থাইল্যান্ডে। সে এক সুগভীর সমপ্রসারণবাদী ষড়যন্ত্র! ডজন ডজন দুর্নীতি মামলা? সে তো সরকারের দমননীতির অংশ মাত্র। বিদেশি ব্যাংকে নামে-বেনামে অ্যাকাউন্ট? কে না জানে, এ হলো সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত। সুতরাং এই পাড়েও সবাই মহাত্মা গান্ধীর একনিষ্ঠ অনুসারী।
দুর্নীতি তো দূরের কথা, ভাজা মাছও উল্টে খেয়েছেন কি না সন্দেহ।
বলাবাহুল্য, ‘বাংলা সার্চে’ তারই প্রতিফলন ঘটেছে হাতেনাতে।

দুর্নীতি সংলাপ

—দেশ থেকে কি দুর্নীতি মুছে ফেলতে চান?
—আপনি কে বলছেন, মশায়?
—দেশের জনগণ!
—এত সাহস তোমরা পাও কোথায়?
—দেশ থেকে কি দুর্নীতি মুছে ফেলতে চান?
—আপনি আবার কে?
—আমি বিদেশি! পর্যটনে এসেছি আপনাদের দেশটা দেখতে!
— বিদেশি! বেড়াতে এসেছ বেড়িয়ে যাও। ইন্টারনাল ইস্যু নিয়ে এত মাথাব্যথা কিসের!
—না মানে, যদি কিছু সাহায্য করতে…!
—সাহায্য! কিসের ওপর! দেখুন আমাদের কিন্তু সবকিছুর ওপরই সাহায্য লাগবে। আমাদের কিছুই নেই! তা আপনি কী সাহায্য দিতে চান?
—কিছু উপদেশ!
—এই, কে আছিস! একে এয়ারপোর্টের রাস্তাটা দেখিয়ে দে।
—দেশ থেকে কি দুর্নীতি মুছে ফেলতে চান?
—আপনি কে বলছেন?
—আমি ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড।
—দুর্নীতি! আমাদের দেশে তো কোনো দুর্নীতি নেই। কখনো ছিলও না। এই, কে আছিস, ওনাকে বল না, তোরা কেউ দুর্নীতির বানানটাও ঠিকমতো জানিস না।
—ওকে ফাইন। ভেবেছিলাম, দুর্নীতি থাকলে ওটা দূর করার জন্য কিছু সাহায্য করব।
—জি, স্যার! সাহায্য!! না, মানে আসলে প্রথমে আপনাকে ভুল ভেবে মিথ্যা বলে ফেলেছি। আসলে এর আগেও ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড থেকে একজন পর্যটক এসে সব গোলমাল পাকিয়ে দিয়ে গেছে। আসলে আমাদের দেশে দুর্নীতি না পেলে পৃথিবীর আর কোথাও আপনি দুর্নীতি পাবেন না। আরে আমরাই তো দুর্নীতিতে টানা চ্যাম্পিয়ন! বস, সাহায্যের পরিমাণটা যদি একটু বলতেন! না, মানে, কিছু প্ল্যান ছিল তো! ছেলেপুলেরা অনেক দিন ধরেই আবদার করছিল…
—বাহ! আপনারা তো দেখি ব্যাপারটাকে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। দুর্নীতি নিয়েও দুর্নীতি!!
—দেশ থেকে কি দুর্নীতি মুছে ফেলতে চান?
—আপনি কে ভাই! পরিচয়টা আগে দিন। তা না হলে কী বলতে কী বলে ফেলি ঠিক নেই।
—আমি এলিয়েন! ভিনগ্রহ থেকে এসেছি!!
—অ্যালিয়েন! ভিনগ্রহ থেকে!! তা এলিয়েন সাহেব, এ দেশে কী মনে করে?
—গবেষণার জন্য কিছু দুর্নীতিবাজ দরকার ছিল!
—কী গবেষণা?
—না, মানে, দুর্নীতির জন্য কোন জিনিসটা দায়ী সেটা খুঁজে বের করে সেই অনুযায়ী ট্রিটমেন্টের ব্যবস্থা করতাম!
—ও! আপনি বোধহয় অনেক পথ পাড়ি দিয়ে এসেছেন। ক্লান্ত! চা-কফি কিছু খাবেন! এই, কে আছিস, অ্যালিয়েন সাহেবকে পাঙাস মাছের পেটি দিয়ে চিকন চালের ভাত দে! উনি আমাদের দেশ থেকে জনশক্তি আমদানির জন্য আসছেন। জলদি খবর ছড়িয়ে দে, ভালো বেতনে ভিনগ্রহে জনশক্তি রপ্তানি হবে। বিটিভিতে একটা প্রেস রিলিজ পাঠিয়ে দাও। খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দাও।
—জি, আপনি মনে হয় ভুল করছেন!
—আমি মোটেও ভুল করছি না। আপনি রেস্ট নিন। কিছু লাগলে আওয়াজ দিয়েন। আর পার্সেন্টেজটা কি আপনারা ঠিক করবেন, না আমরা নিজেরাই ম্যানেজ করে নেব?
—কিসের পার্সেন্টেজ!
—এই, কে আছিস! অ্যালিয়েন সাহেবকে একটু বোঝা! আচ্ছা, আপনারা আর কী কী পারেন!
—মাইন্ড কন্ট্রোল!
—বাহ্, বেশ তো! তা কার?
—টু সাম এক্সটেন্ড, সবার!
—বাহ্! ইংরেজিও জানে! বেশ আপনাকে দিয়ে কাজ হবে। এই কে আছিস, ওনাকে চিড়িয়াখানার একটা বানরের খাঁচায় থাকার ব্যবস্থা কর!
—চিড়িয়াখানা কী?
—গেলেই বুঝবেন! অ্যালিয়েনদের জন্য একধরনের ফাইভস্টার হোটেল বলতে পারেন।
বিরতি
—অ্যালিয়েনটা কী বলে?
—বলে এটা নাকি ঠিক হচ্ছে না। এটা নাকি অন্যায়!
—বলুক। কাজ হচ্ছে তো?
—জি, কাজ হচ্ছে, যে রকম পেদানির ওপর রাখছি! আমার মাইন্ড ও কন্ট্রোল করতে চেয়েছে। আপনি তো জানেন, আমাদের আমরাই কন্ট্রোল করতে পারি না আর ও তো একটা নগণ্য অ্যালিয়েন!
—এ দেশের সব মানুষের মগজ ধোলাই দিতে হবে। যারাই দুর্নীতি নিয়ে কথা বলবে তাদেরই মগজ ধোলাই!
—হীরক রাজার দেশে ছবিটা দেখেছেন?
—না, কেন?
—ছবিটা এই রকম মগজ ধোলাই নিয়ে!
—বেশ তো! অ্যালিয়েন সাহেবকে আগে ছবিটা দেখাও। বাই দ্য ওয়ে, ছবির ডিরেক্টর কে?
—সত্যজিৎ রায় নামের এক ভদ্রলোক!
—ভদ্রলোক বেশ দূরদর্শী। আগেই কী করে যেন বুঝতে পেরেছিলেন একদিন এমনই হবে।
—আপনি কি দেশ থেকে দুর্নীতি মুছে ফেলতে চান!
—কে আপনি? এই সুসময়ে কী চান?
—দুর্নীতি দূর করতে চাই!
—আর চাইতে হবে না! পেয়েছি! একে দিয়ে শুরু করা যাক। নিয়ে যাও একে যন্তরমন্তর ঘরে! এর পর থেকে যে বলবে দুর্নীতি বন্ধের কথা! আমরা কিছুই জানি না ওটা তারই মাথাব্যথা।
—আমরা জানি শুধু মগজ ধোলাই!
—মগজ ধোলাই!
অতঃপর লোকটা বের হয়েই বলতে শুরু করল, এ দেশে কোনো দুর্নীতি নেই। দুর্নীতি বলে যদি কিছু থেকে থাকে তা ছিল বিগত সরকারের আমলে। দেশের মানুষ এখন মহা শান্তিতে আছে। এরপর সুর করে গেয়ে ওঠে, ‘এমন দেশটি কোথাও খুঁজে পাবে নাকো তুমি…’
অন্য কেউ না, সত্যি বলছি! অদ্ভুত এক অ্যালিয়েন বসে বসে দুর্নীতিগ্রস্ত মানুষ বাড়াচ্ছে এ দেশে! যে-ই যায় তার সংস্পর্শে, সে-ই হয়ে ওঠে দুর্নীতির রাবণ!

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: